প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা ও কমিউনিটি গাইডলাইন কঠোরভাবে প্রয়োগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ব্যাপকসংখ্যক ভিডিও মুছে দিয়েছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) গাইডলাইন লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশ থেকে মোট ১ কোটি ৩২ লাখ ১৮ হাজার ৪টি ভিডিও অপসারণ করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) টিকটকের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
টিকটক জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে মুছে ফেলা ভিডিওগুলোর ৯৪.৪ শতাংশই আপলোড করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড) প্রযুক্তির সাহায্যে প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের প্রথম তিন মাসে বিশ্বজুড়ে মোট ১৮ কোটি ৪০ লাখ ১২ হাজার ৫৭৬টি ভিডিও সরানো হয়, যা প্ল্যাটফর্মটিতে আপলোড হওয়া মোট ভিডিওর প্রায় ০.৫ শতাংশ। এর মধ্যে ১৭ কোটি ৮০ লাখ ১৪ হাজার ১৫৪টি ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে আপিল ও যাচাই-বাছাই শেষে ৮৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭১০টি ভিডিও পুনরায় প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কেবল ভিডিওই নয়, প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে বিশ্বজুড়ে আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে টিকটক। বিভিন্ন ভিডিও থেকে মোট ২৩ কোটি ৭৫ লাখ ১৭handle ১২৮টি নীতিমালার পরিপন্থী মন্তব্য মুছে ফেলা হয়েছে।
প্ল্যাটফর্ম থেকে ৮ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৫টি ভুয়া অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের দ্বারা পরিচালিত ২ কোটি ৫৭ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭২টি অ্যাকাউন্টও এই সময়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
টিকটকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভিডিওগুলো মূলত দুটি প্রধান কারণে অপসারণ করা হয়েছে।
১৮.৬ শতাংশ ভিডিও: কনটেন্ট নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন সংবেদনশীল বিষয়বস্তু থাকার কারণে।
১২.৬ শতাংশ ভিডিও: প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা এবং সামাজিক আচরণবিষয়ক গাইডলাইন লঙ্ঘন করার কারণে।
কমিউনিটি গাইডলাইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে টিকটকের এমন কঠোর অবস্থান কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।